চৈত্রের দুপুর টা বিগত কয়েক দিন যাবত ব্যাপক উৎযাপন করছি। না করেও উপায় নাই, তাই হাতে ছাতা আর কাধে ব্যাগ নিয়ে বেড় হই, তারপর নানান আনাচ কানাচ ঘুরা শেষে বাসায় আসি। আনাচ কানাচ বলতে আমার বিভিন্ন কোচিং সেন্টার গুলা আরকি। দুপুর শেষ আর বিকাল শুরুর মাঝের রোদটা প্রচন্ড তেজী হয়, এই সময় আরাম প্রীয় মানুষ গুলা নাকে তেল দিয়া ঘুমায়।আমার সে ধরনের সৌভাগ্য নাই, আমাকে বেরোতে হয় রোদ মাথায় নিয়ে কারন হলো আমার ক্লাশ টা ত আর মিস করা যাবে না। কিন্তু বাইরে বের হতেই রোদের তাপে হাতের ছাতাটা এতটাই গরম হয়ে যায় যে হাতে ধরে রাখাই মুসকিল।
ছাতার উপর রোদের ঠেও খেলে তখন। বাসের জন্য দাড়িয়ে আছি, করা রোদটা ছাতার উপর পরছে, তারপর বাষ্পভুত হয়ে ধুয়া তুলছে।একটু এদিক উদিক তাকাতেই চোখ গিয়ে পরল এক মেয়ের দিকে, বয়স আর কত হবে, ২০ কি ২১। এমনিতে ফর্সা চেহারা, রোদে পুড়ে আর ঘেমে চেহারা লাল হয়ে গেছে, ছাতা নিয়েই দাড়াতে পারছি না আর ঐ মেয়ে চৈত্রের রোদে ভিটামিন ডি খাচ্ছে। ভিটামিন ডি এর ডোজটা বেড়ে যাওয়ায় সে যে নাস্তানাবুদ হয়ে যাচ্ছে তা স্পষ্টই বোঝতে পারছি। এমনিতে মেয়েরা চেহারার প্রতি ব্যাপক যত্নশিল, তারা কেঊ এই রোদে ছাতা ছারা বেড় হবার কথা ভাবতেই পারে না।
স্পা করা চেহারায় রোদের ঝিলিক ত দুরের কথা, চাদের আলো থেকেও তারা সাবধান থাকে। চেহারার অংঙ্গ ভংঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে ছাতা ছাড়া বেড় হবার জন্য মনে মনে নিজেকে ব্যাপক গালাগালি করতেছে এখন। নিজেকে বোকার হদ্দ ভাবছে হয়ত। আবার এমনো হতে পারে গেলো বছরের কাল বৈশাখী হাওয়ায় ছাতার বারোটা বেজে গেছে, তাই সেটা আর বাইরে নিয়ে আসার মতো পরিস্থিতিতে নাই। সুযুগ বোঝে তাই আগুনে ঘী ঠালার জন্য একটু কাছে এগিয়ে গিয়ে দাড়ালাম, মাথার উপর নিজের ছাতাটা চরকির মত ঘোরাতে লাগলাম, দেখাতে চেষ্টা করলাম যে, দেখো আমার হাতে ছাতা, তুমার হাতে বাবাজিকা টুল্লু। রোদে পুরো এবার। তাতে কাজ ও হলো কয়েকবার ছাতার দিকে চোখ গোল গোল করে তাকাল।এ কি রে বাবা ডিপজল বংসধর নাকি । চোখ এত গোল গোল কেনো। বেশ মজা পাইলাম, তারপর একটা ভিড় বাস হেলে ধুলে এসে আমাদের সামনে এসে দাড়ালো। কোনরকম করে ঠেলে ঠুলে বাসে উঠলাম । না ঐ মেয়ে উঠতে পারে নাই, ঠেলে ঠুলে বাসে উঠার মতো মেজাজ তার আর নাই, আরো কিছুক্ষন পুড়তে হবে তাকে এই চৈত্রের রোদে । তাকে বাই বাই বলে আমি নিজের গন্তব্যের দিকে চলিলাম....
0 মন্তব্যসমূহ
ধন্যবাদ আমাদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য