প্রতিবার ঈদ এলেই শুরু হয় শপিং করার তারাহুরা। আমার আবার এই শপিং ব্যাপারটা ঠিক ভালো লাগে না। শপিং করতে যাও, দোকানে দোকানে ঘুরা, তারপর দামাদামি কর। সবচাইতে বিচ্ছিরি ব্যাপারটা হলো মানুষের শরীরে ঘষা খাওয়া। এত মানুষ একসাথে দেখলেই কেমন কেমন লাগে। তারপর হাতে কতগুলা ব্যাগ ঝুলাইয়া এই ভিড়ের মধ্যে হাটাহাটি করা, সব মিলিয়ে একটা মারাত্মক কষ্টের কাজ আমার জন্য। তবে অনেকেই শপিং করতে খুব ভালোবাসেন। তারা একটা কিছু কিনার জন্য দু-তিন দিন মার্কেটে যেতেও রাজি।
প্রতিবার আমি আর আম্মু একসাথে শপিং করার জন্য বের হই। আমি কোনদিনই নিজের কিছু একা একা কিনি নাই, এটা আমার অলসতা, আমাকে কেউ ধরে বেধে কিছু কিনে না দিলে আমি নিজের থেকে কিছু কিনি না।
তেমনি একদিন, রমজান মাস চলছে, আমি আর আম্মু বেড়িয়েছি ঈদের শপিং করতে। আমরা নানা দোকান ঘুরে ঘুরে শপিং করতেছি। একসময় আমি আর আম্মু একটা দোকানে ঠুকে দামদর করতে লাগলাম। আমাদের পাশের দোকান থেকে হঠাৎ করে একটা ভারি কিছু পরে যাবার শব্দ হলো। আমরা ভাবলাম কিছু হয়ত পরে গেছে। তারপর মানুষের আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়ে গেলো, আশেপাশের সব মানুষ সেই দোকান ঘিরে ধরল। কেউ একজন কাঁদো কাঁদো গলায় পানি চাচ্ছে, আমরা এমন গোল ভিড় দেখে কৌতহলি হয়ে দেখার জন্য আগাইয়া গেলাম।
গিয়ে দেখি একজন মোটা করে মধ্যবয়সী মহিলা ফ্লোরে পরে আছে, তাকে ধরে আছে তার সাথে আসা আরেকজন মহিলা। যে নিচে পরে আছে সে হয়ত বেহুশ হয়ে গেছে, তার মাথায় মুখে পানি ছিটানো হচ্ছে, সবাই চারদিক থেকে নানা ধরনের সাহায্য সহযোগিতামুলক বাক্য বিনিময় করতেছে কিন্তু যে মহিলা পরে গেছে, সে আর চোখ খুলছে না, তা কথা বলছে। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাবার কথা হচ্ছে, কিন্তু এম ভাঁড়ি শরীর কি করে কি করবে তা আশেপাশের কেউ বোঝতে পারছে না। কেউ বলছে হয়ত সারাদিন রোজা রেখে মার্কেটে হাটাহাটি করতেছে, মাথা ঘুরে পরে গেছে, আবার কেউ বলছে হয়ত তার প্রেসার ফল করছে, আবার কেউ বলছে ব্লাড প্রেশার বেরে গেছে। কেউ বলছে চিনি খাওয়ান, হয়ত সুগার লেভেল পরে গেছে। এত কিছু হয়ে যাচ্ছে কিন্তু মহিলা আর চোখ খুলে না, মাথায় এক বোতল পানি ঢালা হয়েছে সেটাও শেষ।
তারপর একটু পর মহিলা চোখ খুলে তাকালও। তারপর উঠে বসলো। সবাই কিছুটা চিন্তা মুক্ত হলো, আর মহিলাকে বলল বাসায় চলে যেতে, মহিলাটি মাথা দোলাতে দোলাতে বাসার দিকে হাটা দিলো। সবাই চলে গেলো, এলাকা কিছুটা হালকা হলো। সবাই চলে যাবার পর এক দোকানি সেই দোকানিকে বলছে, কিরে ভাই তোর দোকানে কাস্টমার মাথা ঘুরে পরে যায় বেটা। কিভাবে ব্যবসা করছ, মানুষের কাছে বেশি বেশি দাম চাস, আর শুনেই মাথা ঘুরে পরে যায়। মহিলার কাছে কত দাম চাইছিলি। দোকানি একটা চিকন হাসি দিয়া বলতেছে, আরে নারে ভাই, দাম তেমন চাই নাই, এই শাড়িটার দাম ২০ হাজার টাকা বলছি, আর মহিলা পরে গেলো। সবাই হো হো করে হেসে উঠলো। আরেক দোকানি বলল বেটা দুই হাজার টাকার শাড়ি ২০ হাজার টাকা বললে মানুষ ত মাথা ঘুরে পরবেই। তুই বেটা একদিন মানুষ মারবি এখানে।
আমি ওদের সবার আলাপ আলোচনা শুনে খাম্বা হয়ে গেলাম। নিজের মাথাটাই কেমন ঘুরতে লাগলো। আম্মুকে বললাম আম্মু আজকে আর কিছু কেনাকাটা করতে হবে না। চল বাসায় চলে যাই, নইলে আমি কখন মাথা ঘুরে পরে যাই কে জানে। শুনে আম্মু কিছুটা ভাবলও, আর তারপর আমরা বাসায় চলে আসলাম। আমাদের ঈদ শপিং তারপর দিন থেকে আবার চলতে লাগলো।
0 মন্তব্যসমূহ
ধন্যবাদ আমাদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য