জাতীয় চিড়িয়াখানায় ভ্রমন


ঢাকা চিড়িয়াখানা(ইংরেজি: Dhaka Zoo) 


ঢাকার মিরপুরে স্থাপিত বাংলাদেশের জাতীয় চিড়িয়াখানা। এটি বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ একটি প্রতিষ্ঠান। ১৯৫০ সালে হাইকোর্ট চত্বরে জীবজন্তুর প্রদর্শনশালা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় চিড়িয়াখানাটি। পরবর্তীকালে ১৯৭৪ সালে বর্তমান অবস্থানে স্থানান্তরিত হয় এটি। চিড়িয়াখানাটি উদ্বোধন ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয় ১৯৭৪ সালের ২৩ জুন। বছরে প্রায় ৩০ লক্ষ দর্শনার্থী ঢাকা চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করে থাকেন।


ইতিহাস


ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে ঢাকা শহরের শাহবাগে তৎকালীন নবাবরা একটি ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানার গোড়াপত্তন করেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলাদেশ বা তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানে একটি চিড়িয়াখানার অভাব অনুভূত হয়। পঞ্চাশের দশকের শেষভাগে ঢাকার সুপ্রিম কোর্টের সামনে বর্তমান ঈদগাহ এলাকায় ৪-৫ একর জায়গা জুড়ে ছোট আকারের একটি চিড়িয়াখানা স্থাপন করা হয়। চিড়িয়াখানাটিতে একটি বড় পুকুর এবং পাড়ের খানিকটা জায়গা জুড়ে একটি বলাকা প্রদর্শনী ছিল।


 সেখানে রাজহাঁস, পাতিহাঁস, শীতের পরিযায়ী হাঁস এবং অন্যান্য পাখি ছিল। হাড়গিলা, সারস এবং ময়ূরও প্রদর্শিত হত। বানর, হনুমান আর হরিণ ছিল। সরিসৃপের মধ্যে অজগর ও কুমির ছিল প্রধান।ঢাকায় একটি আধুনিক চিড়িয়াখানা স্থাপনের ব্যাপারে প্রথম সরকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে। তৎকালীন কৃষি, সহযোগিতা ও ত্রাণ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঢাকার উপকণ্ঠে একটি চিড়িয়াখানা ও উদ্ভিদ উদ্যান স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সে বছর ২৬ ডিসেম্বর প্রস্তাবনাটি চুড়ান্তভাবে ঘোষিত হয়। 


এরপর চিড়িয়াখানা স্থাপনের কোনপ্রকার উদ্যোগ ছাড়াই এক দশক পার হয়ে যায়। ১৯৬১ সালের ১১ মার্চ খাদ্য ও কৃষি বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের বরাতে এক উপদেষ্টা পরিষদের নাম ঘোষণা করা হয়। এ পরিষদের কাজ ছিল প্রস্তাবিত চিড়িয়াখানা ও উদ্ভিদ উদ্যান স্থাপন ও ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে সরকারকে পরামর্শ দান। তদানীন্তন পশুপালন সার্ভিসের পরিচালক এই পরিষদের সদস্য সচিব হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।


বিস্তৃতি


ঢাকা চিড়িয়াখানার আয়তন প্রায় ৭৫ হেক্টর। চিড়িয়াখানার চত্বরে ১৩ হেক্টরের দুটি লেক আছে।

প্রাণী বৈচিত্র


চিড়িয়াখানা তথ্যকেন্দ্র হতে প্রাপ্ত তথ্য হতে জানা যায়, বর্তমানে ঢাকা চিড়িয়াখানায় ১৯১ প্রজাতির ২১৫০টি প্রাণী রয়েছে।


এক নজরে বাংলাদেশ জাতীয় চিরিয়াখানা


স্থাপিত  -------------------- ২৩শে জুন, ১৯৭৪

অবস্থান ------------মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ

আয়তন --------------------------- ১৮৬ একর

স্থানাঙ্ক -------- ২৩°৪৮′৪৫.৬২″ উত্তর ৯০°২০′৪০.৬″ পূর্ব

প্রাণীর সংখ্যা --------------------------- ২১৫০

প্রজাতির সংখ্যা -------------------------- ১৯১

বার্ষিক পরিদর্শক ------- ৩,০০০,০০০ জন, 


প্রধান প্রদর্শনসমূহ রয়েল বেঙ্গল টাইগার, এশীয় সিংহ, লোনা পানির কুমির, ইমপালা, এমু, টাপির, এশিয়ান কালো ভাল্লুক।


প্রবেশ মূল্য


চিড়িয়াখানাতে প্রবেশ করতে হলে আপনাকে প্রতি জনের জন্য ৩০ টাকা মূল্যের টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। যদি সাথে ১০ বছরের ছোট কেউ থাকে তবে ২০ টাকা দামের টিকিট সংগ্রহ করে প্রবেশ করতে হবে। 


চিড়িয়াখানার অবস্থান


ঢাকার মিরপুর ১ নাম্বার সেকশনে এর অবস্থান। ঢাকা মিরপুর ১ এর গোলচক্কর হয়ে ঢাকা কমার্স কলেজ যাবার রাস্তা ধরে সামনে গেলেই চোখে পরবে  এটি। সাথে আছে জাতীয় উদ্যান। 


চিড়িয়াখায় যা যা দেখবেন:


চিড়িয়াখানাতে প্রায় সব ধরনের পশু পাখিই রাখার ব্যাবস্থা করা হয়েছে, তার মাঝে কিছূ আছে কিছু নেই। আপনার দিনটাকে আনন্দময় করার সব রকম চেষ্টাই করা হয়েছে এখানে। 


হরিন


চিড়িয়াখানাতে হরিনের অনেক খোলামেলা যায়গা আছে, আর আপনি প্রথমে প্রবেশ করেই এদের দেখা পাবেন। অনেক অনেক হরিন একসাথে। আর চিড়িয়াখানাতে হরিনের এসব যায়গা অনেক গুলি আছে, এর পরেও আপনি আরো হরিন দেখতে পাবেন। এরা খুবই নিরীহ, ডাকলে কাছে আসে, কিছু খেতে পাবার আসা করে, অনেকেই দেয়, কিন্তু দেয়া উচিত নয় খাবার।



হরিন

যেমন একটি হরিন খাবারের লোভে আমাদের কাছে চলে এসেছিলো, পরে তাকে কে যেনো খাবার দেয়, এক টুকরো তিলের খাজা, সেটিই সে মচ মচ করে খেয়ে ফেলে। 





বানর:

তারপর একটু আগালেই আপনার চোখে পরবে বানরের বড় একটি খাঁচা। এটার ভিতর আগে অনেক বারন লাফালাফি করতো। এখন বারনের খাচার সখ্যা অনেক বেড়ে গেছে তার কারনে হয়ত বারন কমে গেছে। ছোট ছোট শিশুরা এই খাঁচার সামনে আসলে নরতেই চায় না, তাদের প্রধান আকর্ষন যেনো এখানেই। 


বানর

পাখির খাঁচা:


বানরের খাঁচা পার হবার পর আপনার চোখে পরবে একটা বড় বক জাতীয় পাখির খাঁচা। নানা ধরনের পাখির সমারহ এখানে।  আপনি নানা ধরনের সাদা কালো বক দেখতে পারবেন। কিছু কিছু আবার এক পায়ে দাড়িয়ে আছে আর ঘুমুচ্ছে সেটা ও দেখতে পারবেন।




পাখি

সিংহের খাঁচা: 


তারপর একটু ডানে দেখবেন কিছু আফ্রিকান সাদা সিংহের খাঁচা। এখানে ২ টা সিংহ আঝে। তারপাশে আছে আরো ভারতীয় সিংহের খাঁচা । এখানে বেশির ভাগ সময়ই সিংহ ঘুমিয়ে কাটায়, মাঝে মাঝে আপনার কপাল ভালো হলে এদের হাটা হাটি আর হাকডাক করতে দেখতে পারেন। আপনার শত ডাকা ডাকির পরেও সিংহ কাকা একবার চোখ বোঝলে আর চোখ খুলে না। 




বাঘের খাঁচা:


সিংহের খাঁচা পার হবার পর আপনাদের চোখে পরবে একটা বাঘের খাঁচা। এটি হলো আমাদে জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগারের খাঁচা। এখানেও সব ঘুমাচ্ছে আরাম করে। তারা এক খাবার পেলেই শুধু হাটাহাটি করে। ডাকাডাকি করে শরিরের শক্তি নষ্ট করে না। সারাদিন শুয়ে বসে ই সময় কাটায়। 



দেখুন সারাদিন তারা এভাবই ঘুমিয়ে কাটায়। আর যদি ঘুমাইতে ঘুমাইতে টায়ার্ড হয়ে যায় তাহলে হয়ত কখনো দাড়িয়ে হাটাহাটি করে।


 

আচমকা বাঘ মামা হাটাহাটি শুরু করে তার খাবার পেয়ে, সেটার ভিডিও দেখুন এখানে:





উটপাখি: 


অনেক গুলা উটপাখি আছে চিড়িয়াখানাতে, এরা এদের খাঁচার ভিতরে হাটে আর মানুষের ডাকে পায়চারি করে। কেউ কেউ আদর করে খেতে দিলে এরা তা খাবার জন্য  একেবারে কাছে চলে আসে, সেরকম একটি সময়েই একজন শিশুর ছবি তোলা কালিন সময়ে একটি উটপাখির একটি ছবি দেখুন। 




উটপাকির ছোট বড় মিলিয়ে অনেক গুলা খাঁচা আছে, কোনটাতে আছে বড় গুলি আর কোনটাতে আছে ছোট ছোট পাখি গুলি। এদের দেখলে অনেকটা মায়াই লাগে। 




ভাল্লুুক: 


তারপর বাঘ আর সিংহের খাঁচার পাশেই আপনি পাবেন একটা কালো ভাল্লুকের খাঁচা। এটিতে আছে একটা রাগী কালো ভাল্লুুক। এটি সারাক্ষন নিজের মাথা দোলাতে থাকে গোল গোল করে। আর খাঁচা থেকে বের হবার পথ খুচথে থাকে। 


ভাল্লুক


ভাল্লুুকের মাথা দুলানোর একটি ভিডিও করেছিলাম, সেটি দেখুন এবার। 


 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট