রক্তসল্পতা - হিমোগ্লোবিন এর অভাব
তানভীর মেহেদী
-----------------------------------------------------
হিমোগ্লবিন কি:
হিমোগ্লোবিন একটি অক্সিজেনবাহী লৌহসমৃদ্ধ মেটালোপ্রোটিন যা মেরুদণ্ডী প্রাণিদের লোহিত কণিকা এবং কিছু অমেরুদণ্ডী প্রাণির কলায় পাওয়া যায়।
স্তন্যপায়ী প্রাণিদের ক্ষেত্রে লোহিত কণিকার শুষ্ক ওজনের ৯৬-৯৭%ই হয় হিমোগ্লোবিনের প্রোটিন অংশ, এবং পানিসহ মোট ওজনের তা ৩৫%। হিমোগ্লোবিন ফুসফুস হতে অক্সিজেন দেহের বাকি অংশে নিয়ে যায় এবং কোষীয় ব্যবহারের জন্য অবমুক্ত করে। এটি অন্যান্য গ্যাস পরিবহনেও অবদান রাখে, যেমন এটি কোষকলা হতে CO2 পরিবহন করে ফুসফুসে নিয়ে যায়।
প্রতি গ্রাম হিমোগ্লোবিন ১.৩৬ হতে ১.৩৭ মিলিলিটার অক্সিজেন ধারণ করতে পারে, যা রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা ৭০গুণ বাড়িয়ে দেয়।
রক্তশুন্যতার কারন :
বিভিন্ন রোগে রক্তশূন্যতা হতে পারে। এর মধ্যে আছে-
* আয়রনের অভাবজনিত রক্তশূন্যতা
* থ্যালাসেমিয়া (রক্তের অসুখ)
* অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া
* হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া
* ব্লাডক্যান্সার বা লিউকোমিয়া।
যে রোগেই রক্তশূন্যতা হোক এর পেছনে কয়েকটি কারণ দায়ী। যেমন, অস্থিমজ্জায় লোহিত কণিকা কম তৈরি হওয়া। যা হতে পারে অস্থিমজ্জার স্বল্পতা, লৌহ-ভিটামিন বি১২ অথবা ফলিক এসিডের অভাব, দীর্ঘস্থায়ী জীবাণু সংক্রমণ, থাইরয়েড গ্রন্থির অসুখ বা লিভারের অসুখ, বিভিন্ন ধরনের ওষুধ সেবন, কীটনাশকের ব্যবহার, রঞ্জন রশ্মি বা তেজস্ক্রিয় রশ্মির প্রভাব ইত্যাদি কারণে।
রক্তে লোহিত কণিকা বেশি ভেঙে যাওয়ার কারণেও রক্তশূন্যতা হতে পারে। সাধারণত এটি হয় জন্মগতভাবে লোহিত কণিকায় ত্রুটি (যেমন থ্যালাসেমিয়া) থাকলে।
কোনো কারণে শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলেও রক্তশূন্যতা হতে পারে। যেমন সাময়িক ও দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষরণজনিত অসুখ (পেপটিক আলসার, কৃমির সংক্রমণ, পাইলস), ঋতুস্রাবের সময় অধিক রক্তক্ষরণ ইত্যাদি।
রক্তশুন্যতার কারন :
বিভিন্ন রোগে রক্তশূন্যতা হতে পারে। এর মধ্যে আছে-
* আয়রনের অভাবজনিত রক্তশূন্যতা
* থ্যালাসেমিয়া (রক্তের অসুখ)
* অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া
* হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া
* ব্লাডক্যান্সার বা লিউকোমিয়া।
যে রোগেই রক্তশূন্যতা হোক এর পেছনে কয়েকটি কারণ দায়ী। যেমন, অস্থিমজ্জায় লোহিত কণিকা কম তৈরি হওয়া। যা হতে পারে অস্থিমজ্জার স্বল্পতা, লৌহ-ভিটামিন বি১২ অথবা ফলিক এসিডের অভাব, দীর্ঘস্থায়ী জীবাণু সংক্রমণ, থাইরয়েড গ্রন্থির অসুখ বা লিভারের অসুখ, বিভিন্ন ধরনের ওষুধ সেবন, কীটনাশকের ব্যবহার, রঞ্জন রশ্মি বা তেজস্ক্রিয় রশ্মির প্রভাব ইত্যাদি কারণে।
রক্তে লোহিত কণিকা বেশি ভেঙে যাওয়ার কারণেও রক্তশূন্যতা হতে পারে। সাধারণত এটি হয় জন্মগতভাবে লোহিত কণিকায় ত্রুটি (যেমন থ্যালাসেমিয়া) থাকলে।
কোনো কারণে শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলেও রক্তশূন্যতা হতে পারে। যেমন সাময়িক ও দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষরণজনিত অসুখ (পেপটিক আলসার, কৃমির সংক্রমণ, পাইলস), ঋতুস্রাবের সময় অধিক রক্তক্ষরণ ইত্যাদি।
শরীরে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে কী ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে?
হিমোগ্লোবিন কম থাকলে কি কি খাবার খাওয়া উচিত:
১. যদি খুব কম পরিমাণ কমে তাহলে তেমন একটা পরিবর্তন দেখা যায় না, শুধু ঝিমঝিম ভাব থাকবে আর মাথা ঘুরাবে৷
২. মাঝামাঝি পর্যায়ের কমলে আলসে ভাব হবে সব সময়, মাথাব্যথা করবে ঘনঘন, মনোযোগ কমে যাবে, দুর্বল লাগবে৷
৩. যদি খুব বেশি পরিমাণ কমে যায় তাহলে দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস, নাড়ি স্পন্দন বেড়ে যাবে, হৃদকম্পনও বেড়ে যাবে এবং সাথে বুকে ব্যথা ও বুক ধড়ফড় করবে৷
এছাড়া শরীর দেখেও বোঝা যায় যে হিমোগ্লোবিন কমে যাচ্ছে কিনা৷ এসময় হাতের তালু, নখ, মাড়ি এবং শরীর ফ্যাকাসে হয়ে যাবে৷ হাত পা ফুলে যাবে৷ অনেক ঘাম দিবে, বুক জ্বালাপোড়া করবে, বমি, পায়খানা দিয়ে রক্ত পড়বে৷
হিমোগ্লোবিন কম থাকলে কি কি খাবার খাওয়া উচিত:
হিমোগ্লোবিন মানব শরীরের অত্যন্ত জরুরি উপাদান। এটি একধরনের প্রোটিন যা ফুসফুস থেকে অক্সিজেন আমাদের দেহের সমস্ত কোষ গুলিকে সরবরাহ করে এবং কার্বন ডাই অক্সাইড বহন করে আবার ফুসফুসে পৌছে দেয়। ফলত আমাদের দেহের কোষ গুলিকে সক্রিয় ও কর্মক্ষম রাখার জন্য আমাদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমান স্বাভাবিক থাকাটা অত্যন্ত জরুরি।
সাধারণত একজন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের রক্তে ১৪ -১৮ g/dl ও একজন প্রাপ্ত বয়স্ক নারী দেহে ১২ -১৬ g/dl পরিমান হিমোগ্লোবিন থাকা প্রয়োজন। দেহের রং ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, দুর্বলতা, শ্বাস-প্রশ্বাস এর অসুবিধা, মাথাব্যথা, হৃদকম্প বেড়ে যাওয়া এবং খিদে না পাওয়া ইত্যাদি রক্তে হিমোগ্লোবিন কম হয়ে যাওয়ার লক্ষণ। ফলিক অ্যাসিড, আয়রন, ভিটামিন সি এবং ভিটামিন বি১২ ইত্যাদি জরুরি উপাদান গুলির অভাব আমাদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমানকে কমিয়ে দেয়। আসুন আজ জেনেনি কোন ধরনের খাবার আমাদের দেহে হিমোগ্লোবিনের পরিমান বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।
১.ফলিক অ্যাসিড

ফলিক অ্যাসিড আমাদের রক্তে লোহিত রক্ত কনিকা তৈরী হওয়ার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। সুতরাং হিমোগ্লোবিনের পরিমান বাড়িয়ে তোলার জন্য আমাদের ফলিক অ্যাসিড পূর্ণ খাবার খাওয়া জরুরি। আসুন দেখেনি কি কি খাবারে ফলিক অ্যাসিড থাকে।
প্রতিদিনের খাবারের সাথে সবুজ শাক সবজি খাওয়া উচিত। এতে প্রচুর পরিমানে ফলিক অ্যাসিড থাকে। যা আমাদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমানকে বাড়িয়ে তোলে।
চিকেন লিভার, মটন লিভার, ব্রকলি, কলা, বাদাম, স্প্রাউট, এগুলি আমাদের দেহে ফলিক অ্যাসিড যোগান দেয়। ফলত শরীরে হিমোগ্লোবিনের অভাব হলে উপরিউক্ত খাবার গুলি আমাদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমানকে বাড়িয়ে তোলে।
২.আয়রন:

আয়রণের অভাব আমাদের শরীরে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। তাই স্বাভাবিক ভাবেই আয়রন যুক্ত খাবার আমাদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের অভাব পূরণ করে।
খেজুর, বেদনা, আপেল তরমুজ, আমলকি ইত্যাদি ফলগুলিতে প্রচুর পরিমানে আয়রন থাকে।
এই ফলগুলি নিয়মিত খেলে আমাদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমানকে খুব সহজে বাড়িয়ে তোলা যায়। বিশেষ করে রোজ একটি করে আপেল বা বেদনা খেলে আমাদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমানকে কম হতে দেয় না।
ড্রাই ফ্রুটস যেমন কিসমিস, আলমন্ড, শুকনো খেজুর আয়রনের ভান্ডার। সুতরাং হিমোগ্লোবিন কম থাকলে এগুলি খাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
পালংশাকে অফুরন্ত আয়রন থাকে।এটি শুধু আমাদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমান বাড়িয়ে তোলার সাথে সাথে আমাদের দেহে ক্যান্সার সংক্রামনকেও রোধ করে।এছাড়া কুমড়োর বীজেও প্রচুর পরিমানে আয়রন থাকে।১০০ গ্রাম কুমড়োর বীজ আমাদের শরীরে ৮৩% আয়রনের যোগান দিতে পারে। সুতরাং হিমোগ্লোবিনের পরিমান বাড়িয়ে তোলার জন্য এই দুটি খাবারই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া চিকেন লিভার,মটন লিভার,সী ফুড, টোফু, ব্রাউন রাইস, ব্রকলি ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমানে আয়রন থাকে। তাই হিমোগ্লোবিন কমে গেলে এগুলি খাওয়া উচিত।
৩. ভিটামিন C


ভিটামিন C এর সাহায্য ছাড়া আমাদের শরীর পুরোমাত্রায় প্রয়োজনীয় আয়রন গ্রহণ করতে পারেনা। আর আয়রনের অভাবে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার অন্যতম মূল কারণ। তাই শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমানকে বাড়িয়ে তোলার জন্য ভিটামিন C যুক্ত খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
ব্রকলি, টমেটো, ক্যাপসিকাম, পালংশাক এগুলি প্রত্যেকটিতে ভিটামিন C থাকে। হিমোগ্লোবিন কমে গেলে এগুলি হিমোগ্লোবিন বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।
পাকাপেপে, কমলালেবু, পাতিলেবু, স্ট্রবেরী, আঙ্গুর এগুলি প্রত্যেকটি ভিটামিন C তে পরিপূর্ণ। হিমোগ্লোবিনের অভাব হলে এগুলি খাওয়া উচিত।
ঔষদ যা খেতে পারেন: ভিটামিন সি এর সিরাপ, তবে ঔষদ না খেয়ে ফলমুল খেলেই বেশি উপকার পাবেন।
ঔষদ যা খেতে পারেন: ভিটামিন সি এর সিরাপ, তবে ঔষদ না খেয়ে ফলমুল খেলেই বেশি উপকার পাবেন।
৪. বীট
বীট একটি সুপার ফুড। এতে পটাসিয়াম, ফাইবার, ফলিক অ্যাসিড ও আয়রন প্রচুর পরিমানে থাকে। এটি আমাদের শরীরে লোহিত রক্ত কনিকার পরিমান বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।
৫. আলু


শরীরে হিমোগ্লোবিনের অভাব হলে আলু খাওয়া উচিত। এতে প্রচুর পরিমানে আয়রন ও ভিটামিন C বর্তমান। তাই এটি শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমান বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।
শরীরে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়া অত্যন্ত ক্ষতিকারক। এইসমস্ত খাবারগুলি হিমোগ্লোবিনের অভাব পূরণ করে, তবে এমত অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ মতই খাবার ও প্রয়োজনে ওষুধ খাওয়া দরকার।
১. মাংস
২. ফল
৩. সামদ্রিক খাদ্য
৪. ডিম
৫. শুকনো ফল
৬.বাদাম
৭. ডার্ক চকলেট
৮. কলা
খাবার দাবার করার পরেও রক্ত ঠিক না হলে ঔষদ এর ব্যাবহার করতে পারেন। আপনি যেসব ঔষদ খেতে পারেন তা হলো।
১. ফলিক এসিড
২. আয়রন টেবলেট -ফিওক্রন ( ফলিক + আয়রন + জিংক )
৩. টেব. ফিলেট বা অষ্টোক্যাল ( পায়ের অস্থিমজ্জায় সমস্যা হলে )
৪. টিপিসি ( ভিটামিন বি ১২ )
৫. হিমোগ্লোবিন সিরাপ




0 মন্তব্যসমূহ
ধন্যবাদ আমাদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য