মাঘের শেষে

গ্রামের সরিষা ক্ষেতে


মাঘের শেষে কুমিল্লা 

তানভীর মেহেদী

-----------------------------------------------


মাঘ মাসের মাঝামাঝি চলতেছে। প্রতি বছরি শীতের এই সময়টাতে আমি গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যাই। শীতে গ্রামে বেড়ানোর মজাই আলাদা। ভিষন ভালো লাগে গ্রামের শীতটা। ঢাকাতে শীতের হার কাপানোটা ঠিক অনুবব করা যায় না। বাড়িতে গেলে সেটা হারে হারে টের পাওয়া যায়। এবারের বাড়ি যাওয়াটা আরো বেশি মজার হবে। কারন এবার বাসে করে বাড়ি যাবোনা। এবার যাবো ট্রেনে করে। এর আগের বার একবার ট্রেনে করে গিয়েছিলাম, সেটা ছিল এবটা কমিউটার ট্রেন। সব স্টেষনে  এটা হাপানি রোগির মতো দাড়ায়। তাই আনন্দের চাইতে বিরক্ত হয়েছিলাম বেশি। 


এবার যাবো মহানগর প্রভাতি তে করে। আগেই ট্রেনের সিট কেটে রেখেছি। আর কোন ঝামেলা নাই। কমলাপুর থেকে আগাম ট্রেনের টিকিট কাটা খুবি সহয। কুমিল্লা যেতে হলে সোভন চেয়ারে আপনাকে ভাড়া গুনতে হবে ২০৫ টাকা। মহানগর প্রভাতি ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় ৭ টা ৪৫ মিনিটে, আর কুমিল্লা পৌছায় ১১ টার কিছু পর। আমি আগে আগে টিকিট কেটে রাখার কারনে সিট পেতে আমার কোন চিন্তা করতে হবে না। 

ট্রেনের টিকিট
ট্রেনের টিকিট

সকাল ৭.৪৫ এর ট্রেন। শীতের সকাল, ভোর ৬ টায় উঠে পরলাম ঘুম থেকে। ট্রেন মিস করা যাবে না, মিস হলে ২০৫ টাকা একেবারে জলে যাবে। সকোলে উঠে রেডি হয়ে ৭ টার আগেই বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম। কমলাপুর পৌছে দেখি ৭.২০ বাজে। একটু পরেই ছেরে দিবে। প্লাটফরমে ট্রেন দাড়িয়ে ছিল। অনেক বড় আন্তনগর ট্রেন এটা। আমি আমার সিট এর কামরা খোজে উঠে সিটে বসে পরলাম। ট্রেন ৭.৪৫ এ ছেরে দিল, শুরু হলো মজার একটা জার্নি। এই ট্রেন খুব দ্রুত চলে, তাই মজাও পাওয়া যায়। 

ট্রেনে উঠার সময়

মহাসরকে গাড়ির তিব্র জ্যাম কুমিল্লা জেতে নাকি ৮ থেকে ১০ ঘন্টা লাগে, তাই এবার ট্রেনে যাবার এত তোরজোর। ট্রেন চলতে শুরু করে, একের পর এক ষ্টেশন পার করতে লাগলো। আর আমি জানালার পাশের সিটে বসে বসে দেখতে লাগলাম সব দৃশ্য। একটা সময় ট্রেন চলে আসলো ভৈরব বাজার মেঘনা নদীর উপর। সেখানে আছে বৃটিশ আমলে তৈরি মেঘনা নদীর উপর ভৈরব রেল সেতু। সেটর ভিডিও আপনারা নিচে দেখতে পাবেন। 




দেখতে দেখতে ট্রেন চলে আসলো কুমিল্লা রেল ষ্টেশনে। তখন ঝাঝালো রোদ, সময় ১২ টা দুপুর। এখন আবার শহর থেকে বাসে করে গ্রামের দিকে যেতে হবে।  সেটার ভাড়াও নেহাত কম না, এই কুমিল্লা শহর থেকে বাড়ির দিকে আরো ২০ কিলোমিটার যেতে হবে, সেটাথে ভাড়া গুনতে হবে ৪০ টাকা, সেখান থেকে আবার সিনজিতে পরে তারপর বাড়ি। 

গ্রামে প্রথম দিন: 

গ্রামে প্রথম দিন বিকেল বেলা চলে গলাম মাঠে, সরিষা ক্ষেত দেখার জন্য। সব সময় শীতে আসি কিন্তু সরিষা ক্ষেত দেখা হয় না। এবার আর মিস করবো না। মাঠে নানা ধরনের চাষাবাদই হয়ে থাকে। বিস্তারিত জানার জন্য নিচে দেয়া ভিডিওটা আপনারা দেখতে পারেন। 


আরো কিছু ছবি:





এবার দেখুন একটা মজাদার স্লো মোশন ভিডিও: 












একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট