একটি কুকুর ছানার গল্প

একটি কুকুর ছানার গল্প

তানভীর মেহেদী

 কিছুক্ষন হলো সন্ধা ঘনিয়েছে ঢাকায়, দিনের সূর্যটা লাল হতে হতে পশ্চিমের আকাশে ডুব দিলো কিছুক্ষন আগে, বাড়ান্দায় দাড়িয়ে দাড়িয়ে এতক্ষন সেটাই দেখছিলাম। মাগরিবের আজান হয়ে গেছে, এখন আর দাড়ানো যাবে না, মসজিদের দিকে হাটা দেওয়া উচতি, তাই টুপি পরে বাসা থেকে মসজিদের দিকে হাটতে লাগলাম।

আমাদের মসজিদের ঈমাম সাব একটু অন্য রকম, তিনি কিছুটা বয়স্কও বটে, তবে এই বয়সেও দু তিন বারের মতো হজ্জ পালন করে এসেছেন। ভালই বক্তব্য করতে পারেন তিনি। তাকে অন্য রকম বলার কারন হলো, তিনি শুধু মাগরিবের নামাজের আগেই প্রতিদিন এক ধরনের হেদায়েতি বয়ান করেন। তার এই বয়ান শুরু হয় ঠিক আজান শেষ হবার সাথে সাথে, বেশিক্ষন করেন না, পাচ মিনিটের মত তিনি বয়ান করেন। প্রতিদিন নানা ধরনের বিষয় তার কথায় ফুটে উঠে। বলতে গেলে তিনি চলতি বিশ্বের ঘটনা আর দেশরে নানা দিকের খবর তুলে ধরেন আর তার উপর ইসলামের বিধান কি তা সহয করে বোঝিয়ে দেন, ভালই লাগে, কোনদিন হয়ত মায়ানমার, বা কোনদিন সিরিয়া ইস্যু, তারপর দেশের নানা ধরনের ইসলামি অবক্ষয় নিয়া কথা বলেন ও সবাইকে সাবধান করে দেন, হুসিয়ার করে দেন। এই সময়েই মানুষ অযু সেরে চলে আসতে পারে। আমিও পারলাম, তারপর নামাজ শেষ করে একটু সন্ধা কালীন হাটাহাটিতে বের হলাম।

সন্ধায় হাটাটা জরুরী, একটু হাওয়া লাগানোর বাতিক আরকি শরীরে। তারপর যদি কোনদিন বিকালে বাসায় থাকা হয় তবে সন্ধার হাটাহাটি করাটা খুব দরকার হয়ে পরে। কোন কোনদিন হয়ত যাই বন্ধুর দোকানে, কোন কোনদিন হয়ত বন্ধুদের ডেকে নিয়ে আসি, কিছুক্ষন আড্ডা আর গল্প হয়। কেনাদিন হয়ত কিছুই হয় না, একা একাই হাটি আর বার্গার নুডুলসে পেট হাউজ ফুল করে বাসায় ফিরে আসি। 

এই কদিন আগের কথা, সেদিন মসজিদ থেকে নামাজ পরে বাসার দিকে হাটছিলাম। বাসার গেটের সামনে এসে মনে হলো নাহ, এখনি যাবো না, কিছুক্ষন বাসার সামনের রাস্তায় চক্কর দিয়ে তবেই যাবো। সন্ধা শেষ হয়ে গেছে, এখন যে সময়টা চলছে সেটাকে রাতই বলা চলে। ঘুরে ফিরে এসে আবার বাড়ির গেটের সামনে দাড়ালাম, পকেটের ফোনটা বের করে চোখের সামনে ধরে নেটের কোনা কোনায় ঘেটে বেড়াতে লাগলাম।

আমার বাড়ির সামনে স্বাভাবিক ভাবেই আরেকটি বাড়ি ছিলো, সেখানেও ভাড়ি লোহার গেট, বিনা পারমিশনে একটি মশার নাতিও ঢুকতে পারবে না বাড়ির ভিতরে। কিছুক্ষন পর দেখলাম সামনের বড়িটি থেকে একটি নাদুস নুদুস কুকুরের বাচ্চা দৌড়ে বের হয়ে আসছে, শরীরের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে জন্মের পর এই পৃথিবীর খাদ্যের প্রতিজযোগিতা এখন তাকে স্পর্শ করে নাই, কিন্তু এভাবে কোকাচ্ছে কেনো কুকুর ছানাটি, মনে হচ্ছে কেউ তারা করেছে। লোহার গেটের সামনে এস আটকে গেছে, বের হইতে পারছে না আর কো কো করে চিৎকার করছে। দেখে মায়া হলো, আহরে কি অসহায় অবস্থা।

কুকুর ছানা গুলা ছোটবেলায় ঘেউ ঘেউ করতে পারে না, এক ধরনের চিকন গলায় কো কো করে আর্তনাদ করে, তার এই আর্তনাতের সুর অনেক দুর পর্যন্ত চলে যায়, তারপর তার মা কিংবা বাবা বা তার কাজিনরা তাকে বাচানোর জন্য ছুটে আসে। এখনো তার কো কো আওয়াজে কেউ ছুটে আসে নাই। মনে হয় বেচারার দুনিয়াতে কেউ নাই। একটা কালা সন্ডা মার্কা কুকুর লেজে কুন্ডলি পাকিয়ে দাড়িয়েছে এসে, কিন্তু তার কোন হেলদোল নাই এই কো কো শব্দ। সে কিছুক্ষন ঘটনা দেখার পর আবার লেজ তুলে হাটা দিলো। মানে এই বাচ্চা কুকুরের সে হয়ত কিছুই হয় না। 

তারপরেই দেখলাম এক লোক বাড়ির ভিতর থেকে হুসস হুসস করতে করতে বেড়ুচ্ছে, মানে তিনিই তারা করেছেন এটিকে। লোকটি মধ্যবয়সী, কালো চাপ দাড়ির খেলা তার দুই গালে, শরীরে ভাড়ি পান্জাবী পাজামা, দেহের গঠন বেশ মজবুত, একেবারে পেটানো টানটান শরীরের অধিকারি তিনি। বেশভুসা দেখে মনে হচ্ছে পাক্কা একজন বড় মাওলানা।

হুমম চিনতে পারছি লোকটি ত এই বাড়ির মালিক। কুকুর ছানাটি হয়ত বিনা পারমিশনে তার বাড়িতে ঢুকে গেছে আর এটি তিনি মোটেও পছন্দ করতেছেন না। তিনি হুসস হুসস শব্দ করে কুকুর ছানাটিকে তাড়ানোর চেষ্টা করতেছেন, কিন্তু কোন কাজ হইতেছে না। যতই ছানাটিকে বাড়ির বাইরের দিকে তাড়ানো হচ্ছে, কিছুক্ষন পরেই সেটি গুটি গুটি পায়ে আবার বাড়ির ভিতরে ঢুকে পরতেছে কো কো করতে করতে। বাড়ির মালিক আর অনুপ্রবেশ কারি কুকুর ছানার মধ্যে চলছে এক চোর পুলিশ খেলা, খেলায় কুকুর ছানাটিই বার বার হারিয়ে দিচ্ছে হুজুর বাড়িওয়ালাকে। তিনি নিজে তেমন কিছুই করছেন না, নিজের হাত দুইটা ছরিয়ে ধরে হুসস হুসস করতে করতে তাড়াতে চাইছেন, কিন্তু কে শুনে কার কথা, কুকুর ছানাটি হয়তো বোঝে গেছে হুজুরের দৌড় হুসস হুসস পর্যন্তই, তিনি লাঠি হাতে পেটাতে আসবেন না কখনও, তাই কিছুদুর গিয়ে কুকুর ছানা আবার বাড়ির ভিতর ঢুকে পরছে আর কো কো করে আওয়াজ করে বাড়ি মাথায় তোলছে।

আমার মত অনেকেই কিছুক্ষন দাড়িয়ে থেকে কুকুর ছানা আর বাড়ির মালিকের মধ্যকার হাডুডু খেলা দেখছেন, হাসছেন তারপর চলে যাচ্ছেন। বাড়ির মালিক পরেছেন এক বিরাট  বিপদে, তার পাক পবিত্র পান্জাবি নাপাক হবার ভয়ে তিনি ছানাটির তেমন কাছে যেতেও পারছেন না। এদিকে কুকুর ছানাটির চিৎকারের আওয়াজ আরো বেরে গেলো, মনে হয় তার জান বেরিয়ে যাইতেছে।

বাড়িওয়ালার চোখ রাগে আগুনের মতো জ্বলতেছে, আরে বেটা আমি তো তোকে কিছু তরতেছি না, তোকে সম্মানের সহিত বাড়ি থেকে বের হতে বলতেছি, আর তোর ভাব এমন যেনো আমি তোকে শাপ পিটানোর মতো কের পিটাইতেছি। এমন কো কো শব্দ করতেছিস কেন, আমার মান সম্মান ডুবাবি নাকি, আমি তোর সম্মান দেখতাছি আর তুই আমার টা দেখবি না। দুনিয়াতে আইসস কি শয়তানি করতে। তোদের ত আল্লাহ পাক শয়তানি করার জন্য বানাই নাই, মানুষের উপকার করার জন্য বানাইছে। তোর শরিরে দুনিয়ার নাপাকি, আমার বাড়িতে নাপাকির কোন যায়গা নাই। বের হয়ে যা চুপচাপ, কো কো করার কি আছে। 

কিন্তু কুকুর ছানাটি বের হইতেছে না, সে বাড়ির ভিতরের দিকে দৌড় দিতেছে সুযুগ পাইলে। তারপর আবার তারা খেয়ে আবার বাড়ির গেটের কাছে এসে কো  কো করতেছে। বেস মজাই লাগতেছিলো।তখনি ঘটলো একটি আচানক ঘটনা, সেটির জন্য যেমন আমি নিজেও প্রস্তুত ছিলাম না, ঠিক তেমনি পাস্জাবি পড়া হুজুর বাড়িওয়ালাও তৈরী ছিলেন না। কিছুক্ষনের জন্য আমরা দুজনেই হয়তো আচানক একটা ধাক্কাই খেলুম।

ঘটনা হলো কুকুর ছানাটির চিৎকার বেড়ে যাবার দরুন বাড়িওয়ালা আরো বেশি করে হুসস হুসস করছিলেন আর কুকুরকে নানা ধরনের বকা বকি করতেছিলেন। মনে হচ্ছে এখনি তিনি উত্তম মধ্যম দিবেন ছানাটিকে। অনেক হইছে হাডুডু খেলা, এবার ফাইনাল হবে। কিন্তু হঠাৎ করেই খেলায় ছন্দপতন ঘটালেন একটি মেয়ে।

আমি যখন বাড়ির মালিক আর কুকুর ছানার লড়াই দেখায় ব্যাস্ত ঠিক তখনি দেখলাম এক মেয়ে হন্তদন্ত হয়ে পাশের বিল্ডিংয়রে গেট দিয়ে বের হয়ে দৌড়ে আসতেছে। দুরুত্তটা বশি না, ২০ ফুটের মত হবে, এতটুকুই আসতে তিনি হাপিয়ে গেছেন, পরনে মষ্টি কালারের সেলোয়ার কামিজ, মাথার চুলগুলো খোলা, দৌড়ের কারনে বাতাসে সেগুলি উরতেছে। বয়স কত হবে হয়তো বিশ কি বাইশ, ভার্সিটিতে পরে হয়ত, কারন কেলেজে পড়ে বলে মনে হলো না, এতটাও ছোট মেয়েও না। কোনরকম ওরনা টা কোমরে গুজে দৌড় দিয়েছে বাসা থেকে হয়ত সে। ফর্সা চেহাড়ায় রাগের কারনে গাল দুটি ফুলে লাল হয়ে গেছে, মনে হচ্ছে ভিষন রেগে আছেন। দৌড়ে এসেই হুজুর বাড়িওয়ালাকে ধমক দিয়ে বলতে শুরু করলেন---

---এই যে শুনুন, হ্যা আপনাকে বলছি, অনেকক্ষন ধরে দেখছি আপনি এই বাচ্চা কুকুরটির সাথে বাজে ব্যাবহার করছেন, ও কি ক্ষতি করেছে আপনার বলেনতো, কেনো এমন করছেন?

হুজুর বাড়িওয়ালা ধতমত খেয়ে গেলেন, এমনিতে তিনি একজন হুজুর মানুষ, বেপর্দা মেয়ে ছেলের সামনে দাড়ানো তার মানায় না। সচরাচর মেয়েদের সাথে তিনি হয়ত কথাও বলেন না, এইটা তো একদম অপরিচিতো একজন মেয়ে। কি বলবেন না বলবেন ভেবে কূল কিনারা করতে পারছেন না। তার উপর রাস্তায় মানুষ চলাচল করছে, এইখানে দাড়িয়ে কোন মেয়ের সাথে তর্কাতর্কি করলে লোকে তাকেই ভুল বোঝবে, সাত পাচ ভেবে, হুজুর বাড়িওয়ালার উত্তর,

 ---আরে আপনে কে? আমার সাথে এভাবে কথা বলছেন, আপিনি চিনেন আমি কে?

 ---আপনি যেই হোন, আমার চিনার দরকার নাই, আপনি শুধু বলেন আপনি এই ছানাটির সাথে এমন করছেন কেনো, ও কি করছে আপনাকে, হয়ত একটু আশ্রয় নিছে আপনার বাড়ি, আপনার কাছে ত খাদ্য বস্র বাসস্থানের দাবী করে নাই, আপনি তো ওকে মেরেই ফেলতেন, আপনার কি কোন মায়া দয়া নাই নাকি শরীরে? এমন ছোট একটা প্রাণীর উপর অত্যাচার করতেছেন।

হুজুর বাড়িওয়ালা এবার রেগে আগুন, রাগে গজ গজ করতে লাগলেন, মেয়ে না হয়ে ছেলে হলে এতক্ষনে হাডুডু খেলা ছেরে তিনি যে কুস্তি খেলা শুরু করতেন সেট নিশ্চিত ছিলো। কিন্তু বাড়ির মালিকের যে রাগের আগুন দাবানল হয়ে গেছে সেদিকে মেয়েটির কোন খেয়াল নাই। সে নিচু হয়ে কুকুর ছানাটিকে নেরে চেরে দেখতে লাগলো, কোথাও কোন ব্যাথা আছে নাকি সেটা অনুভব করার চেষ্টা করছে হয়ত। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে সে বাচ্চাটির সাথে কথাও বলতেছে। জন্মের পর কোনদিন এত আদর কারো পায় নাই কুকুর ছানাটি, তাই আদর পেয়ে একেবারে চুপ হয়ে গেছে সে। এতক্ষন কো কো করে দাড়ুন আওয়াজ করছিলো এখন আর করছে না। শান্ত হয়ে বসে আছে।

---আপনি জানেন ওর কত কষ্ট হচ্ছিলো এতক্ষন? কিভাবে চিৎকার করছিলো, আপনি কিভাবে এমন করতে পারেন, এসব করলে কি আপনি কোনদিন বেহেসতে যেতে পারবেন ভাবছেন, কোনদিনো না।

বাড়ির মালিক রেগে আরো আগুন, এতক্ষন সব ঠিক ছিলো, এখন ত মেয়েটি তাকে বেহেশতো থেকে বের করে দোযগের দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, নাউযুবিল্লাহ। কথাটা মোটেও ভালো লাগে নাই হুজুর মহোদয়ের। পারলে ঠাস ঠাস করে দুটি থাপ্পর বসিয়ে দেয় মেয়ের দুই গালে। বেয়াদ্দপ মেয়ে, আমারে শিখায় কি করতে হবে না করতে হবে।

--- ঐ তুমি কে? কে তুমি? কোন বাসায় থাকো? আমার সাথে বেয়াদুবি করতেছো, তোমার মা বাবারে ডাকো, তোমার খবর আছে আজকে, বেয়াদপ জানি কোনহানকার, জীবনে এমন বেয়াদ্দপ দেখি নাই আমি, আস্তাগফিরুল্লাহ।

তারপর মেয়েটি আর কোন কথা বলে নাই, কুকুর ছানাটিকে কোলে তোলে নিলো, আর চুল দোলাতে দোলাতে নিজের বাসার দিকে হাটা দিলো। কুকুর ছানাটি এখনও চুপ, কোন কথাই নাই, চুপ করে মেয়েটির কোলে বসে আছে। ভাবছি কি হলো এইটা, মেয়েটি কি ছানাটিকে বাসায় নিয়ে গেলো নাকি? হয়ত, তাইতো দেখছি, গেট দিয়ে বাড়ির ভিতরে ঢুকে গেছে।

এদিকে হুজুরের চিৎকার বেরে গেছে, কোনদিন হয়তো কোন মেয়ের কাছে এবাবে নাস্তানাবুদ হয় নাই। ঘটনাটি তিনি মনে হয় এখানেই শেষ করবেন না, বিচার আচার ডাকবেন। মুখে কেমন একটা গো গো শব্দ করতে করতে হুজুর মশাইও কোন দিকে চলে গেলেন। আমি দাড়ায়া ভাবছি শুধু মেযেটির সাহসের কথা, কিভাবে একজন হুজুর টাইপ রাগি, বিশাল দেহের অধীকারি বাড়িওয়ালাকে নাস্তানাবুধ করে কুকুর বাচ্চাটিকে নিয়ে গেলো। চোখের পলকেই কত কিছু ঘটে গেলো। আসে পাশের কেউ টেরই পাইলো না শেষ দু মিনিটে কি ঘটে গেছে এখানে।

হয়তো কুকুর ছানাটি ঐ মেয়ের বাসাতে কদিন আশ্রয় পাবে, বাবা মা ভাই বোনের চাপে ছানাটিকে আবার রাস্তায় ছেরে দিতে হবে। আসলে এক বাড়ি পরেই মেয়েটির বাসা, বাসার বাড়ান্দা থেকে নিচের হাডুডু খেলার দৃশ্যটি সে দেখেছে। তারপর যখন আর সহ্য করতে পারে নাই তখন নিচে নেমে আসছে, আর ছানাটি নিয়ে চলে গেছে। দু মিনিটের জন্য মনে হলো, আহরে একটি রাস্তার কুকুর ছানার জন্য যদি এই মেয়ের মন এভাকে কাদে, তাহলে তার মনের ভিতরটা না যানি কত নরম। দু মিনিটর জন্য মেয়েটির প্রেমে পরে গেলাম গা। কেমন ঝড়ের মত এসে সব উরিয়ে দিয়ে চলে গেলো, কেউ কিচ্ছু করতে পারলো না। এমনকি এমন বড় দেহের রাগি একজন হুজুর মানুষ মেয়ের কথার চোটে কেপে গেলেন, কিছুই করতে পারলেন না। মেয়েটি চলে যাবার পর বৃথাই কিছুক্ষন হুমরী তুমরী করলেন।

এক সাপ্তাহ পর 

এ সাপ্তাহ পরের ঘটনা, আবারো একটি নাদুস নুদুস কুকুর ছানা দেখছি হুজুরের বাড়ির ভিতর। আরে এ ত সেই কুকুর ছানাটা। আরে তুই আবার কখন এ্ই বাড়িতে ঠুকলি। তোর ত কপাল খুলে গিয়েছিলো, রাস্তা থেকে উঠে সুজা তিন তলার বাসিন্দা হয়েছিলি। একজন সুন্দর, রুপবতী, মায়াবতী মেয়ে পেয়েছিলি মালিক হিসেবে। এত সব নাটক করে তোকে নিয়ে গেলো বাসায়, সাপ্তাহ না ঘুরতে আবার তুই রাস্তায়, সেই হুজুরের বাড়িতেই ঢুকেছিস আবার । জলদি পালা, বাড়ির মালিক যদি দেখে না, তোর হাড্ডি দিয়া ঘুড্ডি উরাইবো।

কে শুনে কার কথা, দেখলাম সে আরো আয়েস করে বসছে বাড়ির গেটে। শরীরের নাদুস নুদুস ভাবটা এখনো আছে, চেহারায় একটা তেলতেলে ভাব আসছে, শরীর স্বাস্থ ফুলছে আরো। মনে হচ্ছে গত সাত দিন খুব ভালই দিন কাটছে।

আরে সর্বনাশ করেছে হুজুর বেড় হচ্ছে বাড়ি থেকে, এখনি তোকে লাথি মেরে বুড়িগংগা পার করে দিবে, যা ভাগ। কিন্তু একি বাড়িওয়ালার মুখে দেখি হাসি, কোন রাগের রেখা নাই, উল্টা তার সাথে বিস্কুটের একটি হলুদ প্যাকেট। প্যাকেট খুলে সে বিস্কুট খাওয়াচ্ছে কুকুর ছানাটিকে। হায় হায় ঘটনা কি? দোযগে যাবার ভয়ে কি হুজুর মিয়া আবার বলে কয়ে ফেরৎ নিয়ে এসেছেন ছানাটিকে। মনে হয় তাই করেছেন। যাক ভালই হলো, এতদিনে কারো আদর না পাইলে হয়ত কুকুর ছানাটি অক্কাই পাইতো। হুজুর আর কুকুর ছানাটির প্রেম এখন আরো বাড়ছে, লেজ নেরে নেরে কুকুর ছানাটি এখন সারা মহল্লা হুজুরের পিছন পিছন দৌড়ায়।

ঐ মেয়েটিকে তারপর এরেকদিন দেখেছিলাম, সকাল বেলা কাথে ব্যাগ ঝুলিয়ে হন হন করে হেটে যাচ্ছে, গলায় কোন একটা ভার্সিটির আইডি কার্ড ঝুলছে, তারপর এক রিকশায় উঠে চলে গেলো। নাহ আর কোনদিন সামনে পরে নাই, এলাকা ছেরে চলে গেছে হয়তো, আবার এমনো হতে পারে আছে কিন্তু আমি দেখি না আর সেই মায়াবতীকে কোথাও। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ

ধন্যবাদ আমাদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট